প্রকাশিত: Thu, Jul 6, 2023 8:34 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 11:51 AM

[১]আগে সরকারের পদত্যাগ, তারপর সংলাপ: মির্জা ফখরুল

শাহানুজ্জামান টিটু: [২] বিএনপি  মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,  সরকারেকে সবার আগে ঘোষণা দিতে হবে যে;  নিরপেক্ষ  তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকার অধীনে নির্বাচন হবে। অবশ্যই পদত্যাগ করে নির্বাচন দিতে হবে। পদত্যাগ ছাড়া সংলাপের কোন প্রশ্নই উঠবে না। এই মুহূর্তে কোন ফরম্যাটে সংলাপে যেতে চাই না।

[৩] বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১২ দলীয় জোটের শরীকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন। 

[৪] তিনি বলেন, এই বছরটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।  আওয়ামী লীগ আবারো একটা পাতানো নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন জনগণ গ্রহণ করবে না। জণগণের দাবি নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং তার পূর্বে এই সরকারকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচন করতে হবে।

[৫] প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য জীবন দিতে চান, এই প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন;  নির্বাচনের জন্য তিনি কি পদত্যাগ করতে পারেন না? তাহলে তো এদেশের সকল মানুষ খুশি হয়। নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তিনি পদত্যাগ করুন, নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসুক এতে তো কোন সমস্যা নেই। নিরপেক্ষ নির্বাচন ক্ষমতায় আসে তাকে আমরা স্বাগত জানাবো।

[৬] তিনি বলেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমরা আমরা কাজ করছি । অতি শীঘ্রই আমরা আপনাদের সামনে আসব এবং এই আন্দোলনকে আরো চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়ার জন্য আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো।  কর্মসূচি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।  কী ধরনের কর্মসূচি হতে পারে. আপনাদের মাধ্যমে আমরা পরবর্তীতে জনগণকে জানাবো।

[৭] প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন,  আপনি জীবন ত্যাগ করবেন না। তখন হয়তো বলবেন যে, বিএনপি জামাত আপনার জীবন সংহার করেছে। 

[৮] তিনি আরো বলেন, বিএনপি সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে একত্রে আনতে সফল হয়েছে। আমরা ২০ দলীয় জোটের অংশীদার ছিলাম, তাই পুরানো সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। আমরা এক দফা আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিদ্ধান্ত এবং দাবি একটাই, শেখ হাসিনার পদত্যাগ।  

[৯] জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, আমরা আলোচনার মাধ্যমে একটি রূপরেখায় একমত হয়েছি।  আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

[১০] লিয়াঁজো কমিটি বৈঠক শুরু হয় বেলা ৩ টা ১৫ মিনিটে। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ১২ দলীয় জোটের জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীর প্রতীক, জাতীয় দল চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদ, এলডিপি মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জমিয়তে ওলামায় ইসলাম মহাসচিব মুফতি গোলাম মুহিউদ্দিন ইকরাম, ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান এ্যাড. আজহারুল ইসলাম, জাগপা সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট  রাশেদ প্রধান, ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব আবদুল করিম, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি সভাপতি ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মাদ সালেহ উদ্দিন. বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) মহাসচিব মোঃ নজরুল ইসলাম মহাসচিব, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি মহাসচিব এ্যাড. আবুল কাশেম এবং জাতীয় পার্টি মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব